প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ দিনের বিশ্রীঙ্খলা ঘুচবে এখন। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান,পরিশ্রমী ব্যক্তি শহীদুল হাসানকে চুক্তি ভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তাকে অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের সচিব করা হয়েছে । জনশ্রুতি আছে এলজিআরডি মন্ত্রনালয় যেন টাকা বানানোর মেশিন।এই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী,সচিব ও এর আওতায় যেসব অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর রয়েছে সেগুলোর প্রধানরা ঘুষ গ্রহনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু নতুন সচিব শহীদুল হাসান এর সম্পুর্ণ বিপরিত। তিনি দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি'র প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। ওই সময় ছিল এলজিইডির স্বর্ণ যুগ। সেই সময় গ্রাম,শহর ও পানিসম্পদ সেক্টরে ব্যপক উন্নয়নের সাথে সাথে এলজিইডিকে আধুনিকায়ন ও আরো গতিশীল করতে বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ব্যপক ফান্ড সংগ্রহ ও নতুন নতুন প্রকল্প তৈরি করে এলজিইডির কার্যক্রমকে বেগবান ও প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করে এলজিইডিকে একটি সেবা ধর্মী সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
বহুল আলোচিত ১/১১ সরকারের সময় তিনি সাহসিকতার সাথে শক্তভাবে এলজিইডির কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছেন। এলজিইডির সিনিয়র কর্মকর্তাদের মুখে শোনা,দুর্দান্ত প্রভাবশালী ১/১১' র সেনা সমর্থিত সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রায় সকল সংস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দমনের নামে ক্যাম্প স্থাপন করে যৌথবাহিনী এবং কর্মকর্তা দের নানা ভাবে হেনস্তা করে। কিন্তু এলজিইডিতে যৌথবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করেনি। ওই ভিতিকর পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী আজকের সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডিকে আগলে রাখেন। সেখানে সেনাক্য
াম্পে তো বসেইনি বরং কোন কর্মকর্তার গায়ে টোকা লাগতে দেননি। তিনি এলজিইডি ও এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপদ রাখতে সাহসীকতার সাথে সেই সময়ের সেনা প্রধানের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেন এবং এলজিইডিকে সেনাবাহিনীর গুডবুকে আনতে সমর্থ হন।
শহীদুল হাসান আশির দশকে তৎকালীন এলজিইবিতে যোগদান করেন পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলজিইডির অতি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন হিসেবে দক্ষতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি ১০ ডিসেম্বর ২০০০ সালে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান এবং ২৭ জুন ২০০৮ অবসর গমনের পূর্ব পর্যন্ত বহাল ছিলেন।এলজিইডির প্রবাদ পুরুষ মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিক'র পর শহীদুল হাসানও ছিলেন আনপ্যারালাল। তার বিদায়ের পর অমন ডায়নেমিক প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডিতে আর আসেননি। শহীদুল হাসান অবসরে যাওয়ার প্রায় দুই দশক পর ডুবু ডুবু এলজিআরডিকে জাগিয়ে তুলতে দক্ষ প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সচিব হিসেবে স্বঠিক মানুষ বেছে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় অতিগুরুত্বপূর্ণ এলজিআরডি মন্ত্রনালয় সাজিয়েছেন দক্ষ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দিয়ে ও সচিব দিয়ে। এলজিইডির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকলের প্রত্যাশা শহীদুল হাসান একজন দক্ষ ডায়নামিক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেবেন এলজিইডিতে এবং আবার গতি ফিরে পাবে এলজিইডি।